“কিন্তু ফলাফল হলো, কেবল বামপন্থী ও মধ্যপন্থীরা ম্যাক্রনের দলে যোগ দিয়েছে। শুধু যোগ দেয়নি- কট্টরপন্থীরা”
অভিবাসী ও ভয়
বহু বছর ধরে ন্যাশনাল র্যালি’র নেতা মারি লা পেন তার দলকে মূলধারায় আনতে ও ভোটারদের কাছে দলকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য কাজ করছেন।
শুরুর দিকে এই দলের নাম ছিল ন্যাশনাল ফ্রন্ট, যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তার পিতা জ্যোঁ- মারি লা পেন। তার বাবা ও দলের বাকি প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের ইহুদি-বিরোধী এবং চরমপন্থী অবস্থানকে মুছে দিতে তিনি কাজ করেছেন।
এমনকি তিনি দলের ওই নামও পরিবর্তন করেছিলেন। বর্তমানে সেটিই হলো ন্যাশনাল র্যালি।
যাই হোক, এটি এখনও অভিবাসনবিরোধী দল হিসেবেই রয়ে গেছে। দলের বর্তমান নেতা জর্ডান বারডেলা বলেছেন যে তিনি ফরাসি দ্বৈত নাগরিকদেরকে কৌশলগত সংবেদনশীল পদ থেকে নিষিদ্ধ করতে চান। তিনি তাদেরকে “হাফ-ন্যাশনালস” হিসেবে অভিহিত করেন।
তিনি অভিবাসীদের জন্য সামাজিক সুযোগ-সুবিধাও সীমিত করতে চান। ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করা বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফরাসি নাগরিকত্ব প্রাপ্তির যে অধিকার, এটিও বন্ধ করতে চান তিনি।
কিন্তু জনসমক্ষে মাথায় স্কার্ফ পরার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা পরিকল্পনা, সেটি আপাতত অগ্রাধিকারের মাঝে নেই। অভিবাসীরা, বিশেষ করে মুসলমানরা ফরাসি সমাজের একীভূত হবে না এমন শঙ্কাকে কাজে লাগিয়ে থাকে দলটি।
যেমন, ইভাঙ্কা দিমিত্রোভা নামক একজন প্রার্থী বিবিসিকে বলেন যে যেসব অভিবাসী ধর্মীয় আইনকে ফরাসি আইনের উপরে রাখতে চায়, দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।
একজন বিশ্লেষক বলেন, গত এক দশকে ফরাসি জনমত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর হয়েছে।
তবে অভিভাসীদের বিষয়ে মূলধারার বিশ্বাস যে এমনই, এরকম কোনও প্রমাণ নেই। এবং, দলও এ বিষয়টি খোলাসা করেনি যে বর্তমান আইনের বাইরে আর কী ধরনের “ব্যবস্থা” অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্যারিসের ব্যুরো চিফ লেইলা আবৌদ বলেন, “গত এক দশকে অভিবাসনের বিরুদ্ধে ফরাসি জনমত বেশ কঠোর হয়েছে। ২০১৫ সালের সিরিয়া যুদ্ধের সময় থেকে শরণার্থী সংকটের কথা ধরতে পারেন আপনি। চারপাশের এই পরিবর্তনের প্রতিক্রিয়ায় রাজনীতিবিদরাও পরিবর্তিত হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রসঙ্গে এনআর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা ইউরোপীয় আইনের প্রাধান্যের অবসান ঘটাবে, যা ইইউ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর।
কিন্তু এনআর তাদের ন্যাটো-বিরোধী এবং ইইউ-বিরোধী নীতিগুলো শিথিল করেছে। এবং, রাশিয়ার সাথে এনআর-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাদ দেওয়া হয়েছে।
২০২২ সাল থেকে তাদের এজেন্ডায় ইইউ ছাড়ার বিষয়টি আর নেই।
ডানপন্থীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার
এনআর নেতা জর্ডান বারডেলা সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সক্রিয়, বিশেষ করে টিকটকে।
এনআর খুব সাধারণ স্লোগান ও ধারণার উপর ভিত্তি করে সফলভাবে তাদের প্রচারণা চালিয়েছে। জনগণের মাঝে ফরাসি পরিচয় হারানোর ভয় ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির যে চলমান সংকট, এই দুই বিষয়কে কাজে লাগিয়েছে এনআর।
তারা ভোটারদের কাছে নিজেদেরকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার জন্য খুব কার্যকরভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেছে।
“ফ্রান্সে আমরা জর্ডান বারডেলাকে টিকটিক রাজনীতিক বলি। কারণ তিনি এমন একজন রাজনীতিবিদ, যিনি সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করতে খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন,” ইউনিভার্সিটি ডি ফ্রাঞ্চ-কমটি’র ভিনসেন্ট লেব্রু বিবিসির নিউজনাইট প্রোগ্রামে একথা বলেন।
“এটি এমন কিছু, যা তার প্রোফাইলে বেশ অবদান রেখেছে। তিনি ঠিক কী প্রস্তাব করছেন, সেটি না জানলেও তার অনেক কিছুই আপনি দেখতে পাচ্ছেন।”
“অনেক মানুষই বর্ণবাদী নয়,” চার্লস কুলিওলি বলেছেন, এনআর-এর বিরুদ্ধে থাকা একজন বামপন্থী দল এনপিএফ প্রার্থী তিনি৷ “তারা কেবল সিস্টেমে বিরক্ত, তারা ম্যাক্রঁর নীতিতে বিরক্ত, তাদের প্রতিশ্রুতিতেও।”
সুত্র: বাংলা সংলাপ